img

সরকারের ‘ভুল নীতিতে’ গুদামে পচছে রাবার

2016-11-01 08:56:54
2016110112565470125.jpg

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বলছে, আমদানি শুল্ক কম হওয়ায় রাবারজাত পণ্য উৎপাদনকারীরা দেশি রবার বাদ দিয়ে বিদেশ থেকে কম দামে আমদানি করছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশি রাবারের উপর মূল্য সংযোজন কর (মুসক) প্রত্যাহার এবং বিদেশি রাবারের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিটির বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে রাবারের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশিয় রাবার কিনতে গেলে তাদের ১৫ শতাংশ মূসক এবং ৯ শতাংশ বিক্রয় কর দিতে হয়। অন্যদিকে রাবারের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ।

“সরকারের ভুল নীতির কারণে প্রায় ৫ হাজার টন রাবার গুদামে পচছে,” বলেন সাবেক এই মন্ত্রী।

চলতি বাজেটের আগে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের পর তার নির্দেশে অর্থ মন্ত্রণালয় দেশি রাবারের উপর ভ্যাট বা মূসক প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে জানান হাছান। 

কিন্তু চলতি বাজেট প্রণয়নের সময় তা আবার বহাল করা হয়।

“এখন অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি ভুলে হয়েছে। কিন্তু সংসদীয় কমিটির কাছে তথ্য আছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন এই কাজটি করেছে।”

সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে বলে জানান হাছান। অর্থমন্ত্রীকে কমিটির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম, নবী নেওয়াজ, গোলাম রাব্বানী, টিপু সুলতান, ইয়াসিন আলী ও মেরিনা রহমান অংশ নেন।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশ রাবার রপ্তানি করে ৭০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বলে হাছান মাহমুদ জানান।

বাংলাদেশে বছরে ২৪ হাজার টন রাবার উৎপাদন হয়। এটা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ১ শতাংশের কম হলেও বাংলাদেশের পরিবেশের কারণে রাবার সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হয়।

img

সম্পর্কিত পোস্ট