img

মুসা (আ.) এর শ্রমজীবন

2016-11-02 15:00:12
2016110219001242869.jpg

বিখ্যাত আল্লাহর নবী হজরত মুসা (আ.)। ধুলির ধরায় থেকেই যিনি মহাক্ষমতাধর আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর নূরের উদ্ভাস চর্মচোখে অবলোকন করে বিমোহিত হয়েছেন। তিনি নবুওয়াত লাভের আগে ও পরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দীর্ঘ দশ বছর রাখালের চাকরি করেছেন। বস্তুত প্রত্যেক পয়গাম্বরই শ্রমিকের কাজ করেছেন। ইমাম হাকেম ইবনে আব্বাসের সূত্রে বর্ণনা করেন, দাউদ (আ.) ছিলেন লৌহবর্ম প্রস্তুতকারক, আদম (আ.) ছিলেন চাষি, নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রী ইদ্রীস (আ.) ছিলেন দর্জি আর মুসা (আ.) ছিলেন রাখাল।

হজরত মুসা (আ.) মিসর থেকে আল্লাহর অভিপ্রায়ে মাদায়েন যান। সেখানে তিনি ছিলেন নিঃসঙ্গ ও নিঃসম্বল। খাদ্য বলতে ছিল বৃক্ষপত্র। অতঃপর শোয়াইব (আ.)-এর গৃহে তিনি অতিথি হয়ে আশ্রয় লাভ করেন। হজরত শোয়াইব (আ.) আল্লাহর পয়গাম্বর ও নবী ছিলেন। একজন প্রবাসী মুসাফিরকে মজুরির বিনিময় ছাড়াই কিছুদিন নিজ গৃহে আশ্রয় দেওয়া তাঁর পক্ষে মোটেই কঠিন ছিল না।

কিন্তু তিনি হয়তো পয়গম্বরসুলভ অন্তর্দৃষ্টির আলোকে বুঝতে পেরেছিলেন যে, সৎসাহসী মুসা বিনিময় ছাড়া এ ধরনের আতিথ্য কবুল করবেন না। আর অন্যত্র চলে গেলে বিপদগ্রস্ত হতে পারেন। তাই তিনি লৌকিকতা পরিহার করে তাঁকে কর্মচারী হিসেবে রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন।

যেমন আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘তিনি মুসাকে বললেন, আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার বিবাহে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকরি করবে, তবে যদি দশ বছর পূর্ণ করো, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ চাহেন তো তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবো। মুসা বললেন, আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তি স্থির হলো। দুটি মেয়াদের মধ্য থেকে যে কোনো একটি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকবে না। আমরা যা বলেছি, তাতে আল্লাহ ওপর ভরসা। (সুরা কাসাস : ২৭-২৮)

বুখারির বর্ণনায় এসেছে, মুসা (আ.) চাকরির নির্দিষ্ট ৮ বছরের পর আরও দুই বছর ঐচ্ছিক মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। আল্লাহ পাকের চিরাচরিত রীতি হলো, তিনি পয়গম্বরগণকে কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমের পথে পরিচালিত করেন। কেন না এটা মানব চরিত্রের উৎকর্ষের উপায় ও অপরের সংশোধনের প্রধান কারণ হয়ে থাকে। তাই মুসা (আ.)-কে হজরত শোয়াইব (আ.)-এর সঙ্গে শ্রম ও মজুরির চুক্তিতে আবদ্ধ করিয়ে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার অনুশীলন করান।

কোরআনের বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, মুসা (আ.) থেকে ছাগল চরানোর কাজ নেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অধিকাংশ পয়গম্বরকে এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। বোখারির বর্ণনায় রয়েছে, ‘বিশ্বনবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ প্রেরিত প্রত্যেক নবীই ছাগল চরিয়েছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল আপনিও কি? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি মক্কাবাসীর ছাগল চরিয়েছি। স্মর্তব্য যে, ছাগল সাধারণত পাল থেকে আলাদা হয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে। ফলে রাখালের মনে বার বার ক্রোধের উদ্রেক হয়।

ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সে যদি পলাতক ছাগল থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, তবে ছাগল হাতছাড়া হয়ে বাঘের খোরাকে পরিণত হবে। পক্ষান্তরে ইচ্ছামতো পরিচালনা করার জন্যে যদি ছাগলকে মারপিট করে, তাহলে ক্ষীণকায় জন্তু হওয়ার কারণে হাত-পা ভেঙে যাওয়া বিবিত্র নয়।

এ কারণে রাখালকে অত্যধিক ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হয়। পয়গম্বরগণের সঙ্গে সাধারণ মানব সমাজের ব্যবহারও তদ্রুপ হয়ে থাকে। এতে পয়গাম্বরগণ তাদের তরফ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতেও পারেন না এবং তাদেরকে কঠোরতার মাধ্যমেও পথে আনতে পারেন না। ফলে ধৈর্য ও সহনশীলতার অভ্যাসের পথই তাঁদেরকে অবলম্বন করতে হয়।

img

সম্পর্কিত পোস্ট